অনুচ্ছেদ - ৩
ধারা- ২৪
সংগঠনের আজীবন ও সাধারণ সদস্যদের সমন্বনয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে।
ধারা- ২৫
নির্বাচনের মেয়াদকাল ঃ নির্বাচন কাল বা মেয়াদ শেষে কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) দিন আগে নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও দায়িত্বভার হস্তান্তর করার ব্যবস্থা করবেন।
ধারা- ২৬
সভার নিয়মাবলী ঃ
ক)সাধারণ সভা ঃ সাধারণ সভা ৬ (ছয়) মাস অন্তর অনুষ্ঠিত হতে হবে। ১৫ (পনের) দিনের নোটিশের এবং ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) সদস্য উপস্থিতিতে কোরাম হবে।
খ) স্থায়ী পরিষদ সভাঃ স্থায়ী পরিষদ কমপক্ষে ৬(ছয়) মাসে একবার সভা আহবান করতে হবে। সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্বাহী পরিষদ প্রতিবেদন আকারে পেশ করিতে হইবে এবং যাবতীয় অনুমোদন প্রদান করিবেন।।
গ) নির্বাহী পরিষদ সভা ঃ নির্বাহী পরিষদের সভা বৎসরে কমপক্ষে ৬ (ছয়) বার আহবান করতে হবে। ৭ (সাত) দিন পূর্বে তারিখ, সময়, স্থান ও সূচীসহ নোটিশ প্রদান করতে হবে। এ সভার ফোরাম হতে ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) সদস্য উপস্থিতিতে। সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম প্রতিবেদন আকারে স্থায়ী পরিষদ এর নিকট দাখিল করবেন।
(ঘ) জরুরী সভা ঃ সাধারণ সভা ৩ (তিন) দিনের নোটিশের আহবান করা যাবে,
নির্বাহী পরিষদ সভা ঃ ২৪ (চব্বিশ) ঘন্টার নোটিশ আহবান করা যাবে।
(ঙ) বিশেষ সাধারণ সভা ঃ যেকোন বিশেষ কারণে সাধারণ সভা ২১ (একুশ) দিনের নোটিশ আহবান করা যাবে। এ সভার বিশেষ বিষয় ছাড়া অন্য কোন আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হবে না। বিশেষ এজেন্ডা লিপিবদ্ধ করে যথারীতি নোটিশ প্রদান করতে হবে।
(চ) তলবী সভা ঃ
১। কমপক্ষে ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) সদস্য বিশেষ সাধারণ সভার কর্মসূচি বা উদ্দেশ্য ব্যক্ত করে বিশেষ বিষয় ছাড়া অন্য কোন আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। বিশেষ এজেন্ডা লিপিবদ্ধ করে যথারীতি নোটিশ প্রদান করতে হবে।
২। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আবেদন প্রাপ্তির ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে তবলী সভার আহবান না করলে তলবী সদস্যবৃন্দের মধ্যে একজনকে আহবায়ক করে ২১ (একুশ) দিন পরে ১৫ (পনের) দিনের নোটিশ সভা আহবান করতে পারবেন, তবে তলবী সভা প্রতিষ্ঠানের অফিসে ডাকতে হবে। মোট সাধারণ সদস্যদের ২/৩ (দুই তৃতীয়াশ) সদস্যদের উপস্থিতিতে ফোরাম হবে। এই তলবী সভায় যে কোন বিশেষ সিদ্ধান্ত সংগঠনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে।
চ) মূলতবী সভা ঃ
১। সাধারণ সভা নির্ধারিত সময়ের সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) মিনিট দেরীতে আরম্ভ করা যাবে অন্যথায় স্থগিত হবে।
২। সাধারণ সভা ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) কোরামের অভাবে স্থগিত হলে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে পরবর্তী সাধারণ সভার নোটিশ প্রদান করা হবে এবং ঐ স্থগিত সাধারণ সভাকে ফোরাম না হলে যতজন সদস্য / সদস্যা উপস্থিত থাকবেন তাদের নিয়েই সভা দুইবার ফোরামের অভাবে স্থগিত হলে ৩য় বার উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে এবং সাধারণ সদস্য হতে কো-অপট করে কার্য নির্বাহী পরিষদের শূণ্য/খালি সদস্য অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
ধারা – ২৭
তহবিল/অর্থ লেনদেনঃ
(ক) ব্যক্তি,দেশী/বিদেশী সংস্থাসমূহ, ব্যবসা বা কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ও ফাউন্ডেশন এবং সরকার হতে অনুদান গ্রহণ করা যাবে।
(খ) আর্থিক বছর শেষে লভ্যাংশ তহবিলের অর্থ বা জমাকৃত তহবিলের অর্থ সদস্যদের মাঝে বন্টন করা যাবে না শুধু মাত্র সংস্থার স্বার্থে ব্যয় করা যাবে। তাছাড়া সংস্থার স্বার্থে ও উন্নয়নের যেকোন কাজে প্রকৃত খরচ বা সেবার জন্য ব্যয়/দান করা যাবে।
(গ) সংগঠনের শাখা কমিটির নামে সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থা হতে অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ বা সম্পত্তি লাভ করলে ২৫% (শতকরা পঁচিশ ভাগ) অর্থ বা সমপরিমাণ সম্পত্তি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ তহবিলে জমা দিতে বাধ্য থাকবে।
ধারা- ২৮
আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঃ
(ক) প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এলাকাস্থ বাংলাদেশে যে কোন সিডিউল ব্যাংকে সংগঠনের নামে একটি স্থায়ী সঞ্চয়ী /চলতি হিসাব খুলতে হবে।
বিকাশ ও ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
(খ) ব্যাংকের লেনদেনের জন্য সংগঠনের সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের সাথে যৌথ স্বাক্ষরদান হবেন এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় সভাপতির, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ যে কোন দুইজন অবশ্যই স্বাক্ষরদাতা হিসেবে থাকবেন।
(গ) সংগঠনের নামে সংগৃহীত অর্থ কোন অবস্থাতেই হাতে রাখা যাবে না। অর্থ প্রাপ্তির সাথে সাথে নগদ অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাউন্টে জমা দিতে হবে।
(ঘ) সংগঠনের প্রয়োজনীয় অর্থ খরচের পূর্বে উত্তোলনের জন্য নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে এবং খরচের পর পরই খরচকৃত অর্থ নির্বাহী পরিষদ সভায় অনুমোদন নিতে হবে এবং বাৎসরিক সাধারণ সভায় সকল খরচ অনুমোদন এবং বাজেট পেশ করতে হবে। তবে স্থায়ী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরীক্ষা কমিটি হবে।
ধারা- ২৯
অডিটর ঃ
সংগঠনের সকল হিসাব-নিকাশ যে কোন নিবন্ধকৃত হিসাব সংস্থা (অডিট ফার্ম) বা হিসাব পরীক্ষার দ্বারা করা হবে। এ ধরণের হিসাব বার্ষিক ভিত্তিতে হবে। তাছাড়া সংগঠনের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন কর্মকর্তার দ্বারা বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা করা যাবে। বার্ষিক অডিটর প্রতিবেদন নিয়মিত সাধারণ পরিষদের নিকট পেশ করতে হবে।
ধারা- ৩০
তহবিল বৃদ্ধি ঃ
এই সংগঠনের তহবিল বৃদ্ধির জন্য যেকোন প্রকল্প/কর্মসূচি/অনুষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে। গৃহীত প্রকল্প/কর্মসূচি/অনুষ্ঠানশেষে আয় ও ব্যয় পূর্ণ হিসাব সাধারণ সভায় দাখিল করতে হবে।
ধারা- ৩১
গঠনতন্ত্রের সংশেধনী পদ্ধতি ঃ
সংগঠনের বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলর সাধারণ পরিষদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের সম্মতিক্রমে গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা/উপ-ধারা সংশোধন,সংযোজন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে। প্রয়োজন বোধে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে।
ধারা- ৩২
বার্ষিক সম্মেলন ঃ সংগঠনের সর্বোচ্চ আইনসভা হচ্ছে বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল। গঠনতন্ত্র সংশোধন, সংগঠনের নীতি নির্ধারণ ও কৌশল নির্ধারণী সভা হবে এই বার্ষিক সম্মেলন।
ধারা- ৩৩
বিশেষবিবিধ ধারা সমুহ ঃ
(১) বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান উদ্যাপন অথবা বিশেষ কোন প্রমোদ ভ্রমণ, ভোজ সভা এবং সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি সকল সদস্যের নিকট হতে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করার ক্ষমতাও থাকবে।
২। গঠনতন্ত্রের যেকোন একটি বিধি বা ধারা লংঘন করলে যা শাখা কমিটির দুই তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক শাখা কার্য নির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিলে কেন্দ্রীয় কমিটি শাখা কমিটিকে বিলুপ্তি ঘোষণা কিংবা অন্য কোন শাস্তি দিতে পারবে।
৩। গঠণতন্ত্রের সামঞ্জস্যপূর্ণ যে কোন সিদ্ধান্ত সংগঠনের সকল পর্যায়ের সদস্যদের অবশ্যই পালনীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
৪। সংগঠনের কোন সদস্য অন্য কোন সদস্যের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে উক্ত সদস্যের উপর সভায় পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন ছাড়া অন্য কোন কাজ নিন্দনীয় বলে বিবেচিত হবে।
৫। এই গঠনতন্ত্র গৃহীত হওয়ার পূর্বে অন্য কোন গঠনতন্ত্র থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬। সংগঠনের শাখা কমিটির নামে কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা হতে অনুদান হিসেবে নগদ অর্থ বা সম্পত্তি লাভ করলে ২৫% (শতকরা ২৫ ভাগ) অর্থ বা সম পরিমাণ সম্পত্তি কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির তহবিলে জমা দিতে বাধ্য থাকবে।
৭। শাখা কমিটি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ হতে যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ কিংবা যেকোন গঠনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উক্ত পদে অন্য জন স্থলাভিষিক্ত বা বহিস্কৃত হলে পদাধিকার বলে লাভকৃত তাঁদের সাধারণ সদস্য পদটিও আপনা-আপনি বাতিল হয়ে যাবে।
৮। এই বিশেষ ধারাসমূহ সংগঠনের সকল প্রকার সদস্যদের অবশ্যই পালনীয় কর্তব্য।
ধারা- ৩৪
অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি ঃ
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ কোন কারণে স্থবিরতা সৃষ্টি হলে বা মেয়াদ পূর্তি হলে স্থায়ী পরিষদ কেন্দ্রীয় বিদায়ী নির্বাহী পরিষদ সমন্বয়ে ৩ (তিন) জনকে সদস্য করে ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটি গঠন করা যাবে। এই কমিটি নির্বাচন কমিটি গঠন করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।
ধারা- ৩৫
কমিটি বিলুপ্তি ঃ
যদি কোন সুনির্দিষ্টকারণে সংগঠনের মোট সাধারণ সদস্যদের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ সদস্য সংগঠনের বিলুপ্তি চান তবে সংগঠনের দায় দেনা পরিশোধের পর সংগঠনটি বিলুপ্ত করা যাবে এবং অবশিষ্ট স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি সরকারী কল্যাণ ত্রাষ্ট এর নিকট হস্তান্তর করা যাবে।
ধারা- ৩৬
সংগঠনের নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাদের নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যেদিন থেকে নির্বাচিত হবে সেদিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য-সদস্যাদেরকে শপথ গ্রহন করতে হবে কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাচিন কমিশনারের কাছে। উপজেলা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন/আঞ্চলিক কমিটি উপজেলা কমিটির সভাপতির কাছে শপথ গ্রহন করতে হবে।
শপথ নামা ঃ
এই মর্মে আমি………………………………পিতা………………………………গ্রাম……………
উপজেলা………………………..জেলা…………………… শপথ গ্রহন করিতেছি যে, সংগঠনের
কেন্দ্রীয়/ মহানগর/উপজেলা/ইউনিয়ন/আঞ্চলিক কমিটি ……………………পদে নির্বাচিত সদস্য/ সদস্যা হিসেবে সংগঠনের সকল নিয়ম কানুন মেনে চলিব। সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কোন কাজে জড়িত থাকবো না। ব্যক্তিগত কাজের চাইতে সংগঠনের কাজে নিয়োজিত থাকিব এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখিব মহান সৃষ্টিকর্তা সহায় হউক।
"আমিন"
Comments